প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১০ নভেম্বর ২০১৫

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৫

অধিদপ্তরের ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন

     

 

পরিচিতি:  দেশের গৌরবময় জাতীয় ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সভ্যতার নিদর্শন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৮৬১ সালে বৃটিশ ভারতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সৃষ্টি হয়। ১৯৮৩ সালে এম.এল.কমিটির অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোতে ০৪টি বিভাগীয় (ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা) আঞ্চলিক পরিচালক কার্যালয় রয়েছে। বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটভুক্ত পুরাকীর্তির সংখ্যা ৪৪৮টি ও প্রদর্শিত জাদুঘরের সংখ্যা ১৭টি এবং রাজস্ব বাজেটে পদসংখ্যা ৪৫৩টি। এ সকল প্রত্নস্থান ও জাদুঘরসমূহে প্রদর্শিত অসংখ্য মূল্যবান প্রত্ননিদর্শন পরিদর্শনের জন্য দেশী-বিদেশী দর্শনার্থী ও পর্যটকগণ আসেন যা সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে এবং দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে পরিচিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। অধিদপ্তরের উলেস্নখযোগ্য পুরাকীর্তিসমূহের মধ্যে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় অমত্মর্ভুক্ত পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও মসজিদ নগরী বাগেরহাটসহ লালবাগ দুর্গ, ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার ও মহাস্থানগড় প্রভৃতি রয়েছে।

 

২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের সম্পাদিত কার্যাবলি :

 

  

প্রশাসনিক : অধিদপ্তরে নিয়োগ, পদোন্নতি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং পেনশন সুবিধা ৭৯ জন কর্মকর্তা কর্মচারিকে প্রদান করা হয়েছে। রাজস্ব আয়ের লক্ষমাত্রা ১০০% অর্জনসহ ২৩টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে। সকল শূন্য পদ পূরণ, ১৯৬৮ সালের (সংশোধিত ১৯৭৬) পুরাকীর্তি আইনের অধ্যাদেশসমূহ বাংলায় পরিমার্জন, সংশোধন ও আইনে রূপামত্মরকরণ এবং সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়োগ বিধি যুগোপযোগী করার কার্যক্রম চলছে।

 

 

অবকাঠামোগত উন্নয়ন (সংস্কার, মেরামত ও নির্মাণ) : অধিদপ্তরের ৪১টি প্রত্নস্থলের প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্কার-সংরক্ষণ, মেরামত ও নির্মাণ কাজ রাজস্ব বাজেট এবং কর্মসূচির আওতায় সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রকল্প ও কর্মসূচি: South Asia Tourism Infrastructure Development Project (BP) প্রকল্পের মাধ্যমে ০৪টি প্রত্নস্থলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ চলছে। কাজের অগ্রগতি ৮২%। বাংলাদেশের প্রাচীনকীর্তিসমূহের সংস্কার সংরক্ষণ, খনন ও উন্নয়ন প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে সবুজ পাতায় অমত্মর্ভুক্ত রয়েছে। ০১টি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে। অনুমোদিত ০৮টি কর্মসূচি (PPNB) পুনর্গঠন অনুযায়ী কাজ চলছে।

প্রত্নসম্পদ (সংরক্ষণ, জরিপ, উৎখনন, সনাক্তকরণ ও রসায়ন) : ০৩টি প্রত্নস্থাপনা সংরক্ষণ ঘোষণা, ০৭টি প্রত্নস্থলে প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখনন, ০৩টি জেলায় জরিপ ও অনুসন্ধান এবং ০২টি বিভাগের সংরক্ষিত পুরাকীর্তিসমূহের হালনাগাদ জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। খননসহল ও নিদর্শনসমূহের ডকুমেন্টেশন ও প্রদর্শনযোগ্য করে উপসহাপনসহ সংগ্রহকৃত প্রত্নবস্ত্তসমূহ স্থায়ী রেজিস্টারে অমত্মর্ভুক্তি এবং মুদ্রাসমূহের ক্যাটালগ তৈরির কার্যক্রম চলছে। জব্দকৃত আলামতগুলো পরীক্ষা পূর্বক জমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট রিপোর্ট প্রেরণ করা হয়েছে।

 চলমান পাতা-২

 

(ক)   প্রশিক্ষণ ও ওয়ার্কশপ : অধিদপ্তরের ১২০ জন কর্মকর্তা কর্মচারি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন  প্রশিক্ষণ কোর্সে  অংশগ্রহণ করেছেন। ০২টি workshop এবং ০৪টি সেমিনার দাপ্তরিক একাডেমিক, আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত বিনিময়ের লক্ষ্যে অধিদপ্তর ও দেশী, আমত্মর্জাতিক সংস্থার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(খ) গবেষণা ও প্রকাশনা : প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখনন, জরিপ, সংস্কার-সংরক্ষণ, অনুসন্ধান প্রভৃতি বিষয়ে গবেষণালব্ধ তথ্য প্রত্নচর্চা-৬ জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে। ০৪টি পুসত্মক, ৩০টি প্রত্নসাইটের ভিউকার্ড এবং ০৮টি প্রত্নসাইটের ছবি সম্বলিত পোস্টার মুদ্রণের কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

(গ) শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম : প্রত্নসচেতন জাতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অধিদপ্তর কর্তৃক সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ প্রত্নস্থল পরিদর্শনের মাধ্যমে সামাজিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।

বৈশ্বিক,  আমত্মর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, সম্পর্ক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম : বিভিন্ন আমত্মর্জাতিক সংস্থা যেমন-ACCU, Nara, Japan, France Embassy, SAARC, KNCU, UNESCO, Dhaka Office এবং WHC এর সঙ্গে প্রয়োজনানুযায়ী সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

                    * অন্যান্য :

  •   জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাসত্মবায়ন, অধীনসত্ম পুরাকীর্তি সাইট ও তৎসংলগ্ন অধিগ্রহণকৃত জমির  রেকর্ড করে ভূমির ভূমি উন্নয়ন কর হালনাগাদ পরিশোধকরণ, অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তিসমূহ এবং চলমান মামলাসমূহ নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে।

 

  •   অধিদপ্তর ও এর আঞ্চলিক দপ্তরসমূহে ওয়েব সাইটে নিয়মিত তথ্য আপডেট, তথ্যসমূহ অনলাইনে আদান প্রদানসহ আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষার্থে অধিদপ্তরে ই-ফাইল ম্যানেজমেন্ট ব্যবসহা প্রবর্তন, সর্বস্তরে ই-গভর্নেন্সকে সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনা :

১.      জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পৈতৃক নিবাস সংস্কার-সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনের কাজটি অধিদপ্তর কর্তৃক সম্পাদন করা হবে।

২.      চলমান প্রকল্প এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির কাজসমূহ বাসত্মবায়ন করা হবে।

৩.      ভারত সরকারের অনুদানে কুষ্টিয়া শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠি বাড়িতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ কাজ এবং বাংলাদেশের Intangible Cultural Heritage সংক্রামত্ম UNESCO, Dhaka Office এর প্রকল্প প্রসত্মাবনা বাসত্মবায়নের লক্ষ্যে সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হবে।

  • .      SAARC Cultural Capital-2016 এর কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনাকৃত Web Portal এ প্রত্নতত্ত্ব সম্পৃক্ত তথ্য প্রদানে সংযুক্ত রাখা হবে।

৫.      চট্রগ্রাম ও সিলেট জেলায় সম্ভাব্য প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা এলাকায় জরিপ, উৎখনন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালু করা হবে ।

৬.      সকল জাদুঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

৭.      প্রত্নতাত্ত্বিক আইনে সংরক্ষণ করা হয়নি দেশের বিদ্যমান এমন সকল অসংরক্ষিত পুরাকীর্তি সংরক্ষিণ ও সংস্কার করার উদ্যোগ নেয়া হবে (যেমন আরমেনিয়ান চার্চ)।

৮.      শিক্ষার্থীদের প্রত্নস্থলে পরিদর্শনের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয়  ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৯.      সকল প্রত্নস্থলে পর্যটন বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি / প্রকল্প প্রণয়ন করা।

 

 

২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের গুরুত্বপূর্ণ / উল্লে­খযোগ্য কর্মকান্ড  :

­­­­­­­­­­­­­

১.

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সংখ্যা

:

১০টি

২.

প্রশিক্ষণ আয়োজনের সংখ্যা

:

০৮টি

৩.

প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা

:

১২০ জন

৪.

প্রত্ন নিদর্শন চিহ্নিতকরণ সংখ্যা

:

৪৯০টি

৫.

উৎখনন সংখ্যা

:

০৭টি

৬.

প্রত্ন প্রদর্শন সংখ্যা

:

১২,৫০০টি

৭.

জাদুঘরে দর্শক সংখ্যা

:

২৫,৬২,২৫৮ জন

৮.

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের সংখ্যা

:

০১টি

৯.

জাদুঘর উদ্বোধন সংখ্যা

:

০২টি

১০.

রাজস্ব আয়ের লক্ষমাত্রা অর্জন

:

১০০%

১১.

প্রত্নস্থাপনা সংরক্ষণ ঘোষণা

:

০৩টি

উপসংহার :  প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জাতির সভ্যতা সংস্কৃতির ধারণকারী প্রত্ননিদর্শন সংগ্রহ, সংস্কার-সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং দেশী-বিদেশী পর্যটকদের প্রত্নসম্পদ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্নস্থলসমূহে পর্যটকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করে প্রত্নসম্পদ পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


Share with :
Facebook Facebook